আগরতলা, ৮ অক্টোবর, ২০২৫ঃ
জিএসটি ব্যবস্থার সংস্কার একটি জনমুখী ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা। মঙ্গলবার আগরতলার মুক্তধারা অডিটোরিয়ামে দু’দিনব্যাপী ‘নেক্সট জেনারেশন জিএসটি’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধন করে তিনি বলেন, “জিএসটি হার সংস্কারের ফলে কৃষক, শ্রমিকসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষ উপকৃত হবেন।”
অর্থ দপ্তরের উদ্যোগে এবং ইন্সটিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্টস অব ইন্ডিয়ার সহায়তায় এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশের উন্নয়নের প্রতীক। তাঁর নেতৃত্বেই ভারত “এক দেশ, এক কর” ব্যবস্থার সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০১৭ সালের ১ জুলাই জিএসটি চালুর পর দেশের অর্থনীতিতে বড় রকমের পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে ভারত বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে।
পরিসংখ্যান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে জিএসটি আদায় হয়েছে ১১.৩৭ লক্ষ কোটি টাকা, ২০২১-২২-এ ১৪.৮৩ লক্ষ কোটি টাকা, ২০২২-২৩-এ ১৮.০৮ লক্ষ কোটি টাকা, এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০.১৮ লক্ষ কোটি টাকায়। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতের অর্থনীতিকে ৩০ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, জিএসটি হার সংস্কারের ফলে মধ্যবিত্ত শ্রেণির মাসিক ব্যয় প্রায় ৪ শতাংশ হ্রাস পাবে। পাশাপাশি দুর্নীতি কমে যাবে, পরিবহণ ব্যয় ৩৩ শতাংশ কমবে, জ্বালানি খরচও কমবে।
নতুন জিএসটি কাঠামোয় দুধ, ছানা ও রুটিকে সম্পূর্ণ করমুক্ত করা হয়েছে। সাধারণ গৃহস্থালির পণ্য যেমন সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট, সাইকেল ইত্যাদিতে করের হার মাত্র ৫ শতাংশ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, প্যাকেটজাত খাদ্য যেমন নোনতা খাবার, সস, পাস্তা, নুডলস, চকলেট, মাখন ও ঘি-তে করের হার ১২ ও ১৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশে আনা হয়েছে। এছাড়া জীবনবীমা ও স্বাস্থ্যবীমা নীতিমালা সম্পূর্ণ জিএসটি মুক্ত, এবং জীবনদায়ী ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামে শূন্য বা সর্বাধিক ৫ শতাংশ কর রাখা হয়েছে।
কৃষকদের সুবিধার্থে ট্রাক্টর, ধান কাটার যন্ত্র ও সার এখন মাত্র ৫ শতাংশ করের আওতায়, আর পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য সিমেন্টের কর ২৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে আনা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, “জিএসটি সংস্কারের ফলে মধ্যবিত্ত শ্রেণি, কৃষক ও শিক্ষাক্ষেত্র উপকৃত হবে। জীবনদায়ী ওষুধের দামও হ্রাস পাবে।”
মুখ্যমন্ত্রী কর্মশালার উদ্বোধনী বক্তব্যে আরও আহ্বান জানান—দেশীয় পণ্য ব্যবহারের অভ্যাস বাড়াতে, অভ্যন্তরীণ পর্যটনে উৎসাহ দিতে এবং ভারতের অর্থনীতিকে আত্মনির্ভরতার পথে এগিয়ে নিতে সকলকে সচেতন ভূমিকা নিতে হবে।