আগরতলা, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ঃ
বর্তমানে রাজ্যের একাধিক চা বাগানে মালিকপক্ষ পরিকল্পিতভাবে চা গাছের পাশাপাশি পাম ওয়েল, লেবু ও সুপারি চাষ শুরু করেছেন, যা চা শিল্প ও চা শ্রমিকদের ভবিষ্যতের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ।শনিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনের এই কৃষি ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করল ত্রিপুরা চা মজদূর সংঘ।
এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার দে চা বাগানের ভেতরে পাম ওয়েল, লেবু ও সুপারি চাষের প্রবণতা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, চা গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ আলো, আর্দ্রতা ও মাটির পুষ্টি অপরিহার্য। কিন্তু পাম ওয়েল, লেবু ও সুপারি গাছ আকারে বড় হওয়ায় অতিরিক্ত ছায়া সৃষ্টি করে এবং মাটির প্রয়োজনীয় পুষ্টি শোষণ করে নেয়। এর ফলে চা গাছের উৎপাদন ক্ষমতা ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছে এবং চা পাতার গুণমানও কমে যাচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে চা শিল্পের বাজারজাতকরণ ও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানের ওপর।
তিনি জানান, চা উৎপাদন ও গুণমান কমে গেলে আর্থিক ক্ষতির বোঝা শেষ পর্যন্ত বহন করতে হয় চা শ্রমিক ও স্থানীয় অর্থনীতিকে। দীর্ঘমেয়াদে এই প্রবণতা চা বাগানগুলোর অস্তিত্ব ও শ্রমিকদের জীবিকা ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
চা মজদূর সংঘের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিনোদীনী চা বাগান, ফটিকছড়া চা বাগান, মহাবীর চা বাগান, কলাছড়া চা বাগান এবং মেঘলি পাড়া চা বাগানে ইতিমধ্যেই পাম ওয়েল চাষ শুরু হয়েছে। এই ধরনের চাষ বন্ধ করার দাবি জানায় চা মজদূর সংঘ।