আগরতলা, ৮ জানুয়ারি,২০২৫ঃ
স্থায়ী পদে নিয়ম মেনে নিযুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ক্ষেত্রে ফিক্সড পে নীতি অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করল ত্রিপুরা হাই কোর্ট। দুটি রিট মামলায় ডিভিশন বেঞ্চ সিঙ্গেল বেঞ্চের রায় বাতিল করে জানিয়েছে, স্থায়ী পদে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা রেগুলার পে স্কেল পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকারী। এই রায়ে রাজ্যের হাজার হাজার শিক্ষকের দীর্ঘদিনের দাবি আইনি স্বীকৃতি পেল।
মামলার প্রেক্ষাপটে জানা যায়, ২০১৭ সালে ত্রিপুরা টিচার্স রিক্রুটমেন্ট বোর্ড গ্র্যাজুয়েট টিচার ও পোস্ট গ্র্যাজুয়েট টিচার পদে স্থায়ী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। বিজ্ঞপ্তিতে পদগুলি স্থায়ী বলা হলেও বেতনের ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ ফিক্সড পে দেওয়ার কথা উল্লেখ ছিল। পরে নিয়োগপত্রে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের এক বছরের জন্য ‘টেম্পোরারি’ হিসেবে নিয়োগ দেখানো হয় এবং তিন মাসের নোটিশে চাকরি বাতিলের শর্ত যুক্ত করা হয়। এর বিরুদ্ধেই শিক্ষকরা আদালতের দ্বারস্থ হন।
সরকার আদালতে জানায়, শিক্ষকরা নিয়োগের শর্ত জেনেই চাকরি গ্রহণ করেছেন। মন্ত্রিসভা অনুমোদিত নীতির অংশ হিসেবেই ফিক্সড পে চালু করা হয়েছে।
আদালত ২০০১ ও ২০০৭ সালের ফিক্সড পে মেমোগুলিকে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক বলে বাতিল করে দেয়। সরকারের আর্থিক সংকটের যুক্তিও খারিজ করা হয়, কারণ পাল্টা হলফনামায় তার কোনও প্রামাণ্য তথ্য দেওয়া হয়নি। এছাড়া বিজ্ঞপ্তিতে স্থায়ী পদ উল্লেখ করে পরে ‘টেম্পোরারি’ নিয়োগ দেওয়াকে আইনসিদ্ধ নয় বলে মন্তব্য করে আদালত।
চূড়ান্ত রায়ে হাই কোর্ট নির্দেশ দেয়, শিক্ষকরা যোগদানের দিন থেকেই রেগুলার নিযুক্ত বলে গণ্য হবেন। যোগদানের তারিখ থেকে রেগুলার পে স্কেল কার্যকর করতে হবে এবং মামলা দায়েরের আগের তিন বছরের বকেয়া অর্থ ৯ শতাংশ সুদসহ তিন মাসের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। পাশাপাশি প্রত্যেক শিক্ষককে ২০০০ করে মামলার খরচ দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এই রায়ে আদালত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, স্থায়ী পদে নিয়ম মেনে নিযুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ক্ষেত্রে ফিক্সড পে নীতি সংবিধান বিরোধী এবং রেগুলার পে স্কেল পাওয়া তাঁদের মৌলিক অধিকার।