আগরতলা, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ঃ
শিক্ষা, সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও শিল্প-বাণিজ্য—সব ক্ষেত্রেই ত্রিপুরা দ্রুত এগিয়ে চলেছে বলে মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা। শুক্রবার দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার বিলোনীয়া বিদ্যাপীঠ মাঠ থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের ভার্চুয়ালি উদ্বোধন ও শিলান্যাস করে তিনি বলেন, উন্নয়নের নিরিখে ত্রিপুরা ইতিমধ্যেই দেশের মধ্যে একটি বিশেষ স্থান করে নিয়েছে।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী প্রথমে বিলোনীয়া মহকুমার রাজনগর এলাকায় নিহারনগর দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের নবনির্মিত পাকা ভবনের দ্বারোদঘাটন করেন। প্রায় ৬ কোটি ১২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এই ভবন নির্মিত হয়েছে। পরে তিনি ঘোষখামার দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের ৯ কোটি ৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত পাকা ভবনের উদ্বোধন করেন। পাশাপাশি বিলোনীয়া ইংরেজি মাধ্যম দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের ৪ কোটি ৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনের ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করা হয়।
ঘোষখামার বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের প্রত্যেকটি উন্নয়ন প্রকল্পের সুফল প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য। তিনি জানান, শুধু রাজনগর এলাকাতেই প্রায় ৮০ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্পে রাস্তাঘাট, পানীয় জল, বিদ্যুৎ ও শিক্ষার উন্নয়ন করা হচ্ছে। উন্নয়নের স্বীকৃতি হিসেবে ত্রিপুরা ইতিমধ্যেই ৩৪৭টি পুরস্কার পেয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শিক্ষাক্ষেত্রে অগ্রগতির প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, নতুন বিদ্যালয় স্থাপন, স্মার্ট ক্লাস, ডিজিটাল লাইব্রেরি, ছাত্রছাত্রীদের স্টাইপেন্ড প্রদানসহ একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নয়া শিক্ষানীতির আলোকে এসসিইআরটি কোর্স চালু করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিদ্যালয় হলো মন্দির—শিক্ষকদের ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তুলে গুণগত শিক্ষায় গুরুত্ব দিতে হবে। স্বচ্ছ নিয়োগনীতিতে টেটের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ, পিএম-শ্রী ও বিদ্যাজ্যোতি বিদ্যালয় স্থাপনের কথাও তিনি তুলে ধরেন।
খেলাধুলার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের ৪৩৫টি বিদ্যালয়ে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু হয়েছে এবং নতুন নতুন খেলার মাঠ তৈরি করা হচ্ছে। মহকুমা স্তর থেকেই ক্রীড়া প্রতিভা তুলে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মণিশংকর মুড়াসিংয়ের মতো জাতীয় স্তরের ক্রীড়াবিদ ত্রিপুরায় তৈরি হওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। নেশামুক্ত ত্রিপুরা গঠনে খেলাধুলার বিশেষ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে সামাজিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও অভিভাবকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বিলোনীয়া ইন্ডোর ক্রিকেট অনুশীলন শেডের উদ্বোধন করেন এবং ভার্চুয়ালি জিরানীয়া ও কৈলাসহরের ইন্ডোর ক্রিকেট অনুশীলন কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন। পাশাপাশি দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলাভিত্তিক নেশামুক্ত প্রিমিয়ার ফুটবল লিগের ফাইনাল ম্যাচের সূচনা করেন। সাতচাঁদ ও ঋষ্যমুখ একাদশ এই ফাইনালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। এছাড়া বিলোনীয়ার বনকরে ২১ কোটি ৪ লক্ষ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য বিদ্যাসাগর মাছ ও সবজি বাজারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী এবং একটি নেশামুক্তি কেন্দ্রেরও উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে সমবায় মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া জানান, নতুন প্রজন্মকে সুশিক্ষিত করতে রাজ্যে ২১টি একলব্য স্কুলসহ একাধিক পরিকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন একাধিক বিধায়ক, জেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনিক ও পুলিশ আধিকারিকরা। জিরানীয়া থেকে পর্যটনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী এবং কৈলাসহর থেকে যুব বিষয়ক ও ক্রীড়ামন্ত্রী টিংকু রায় ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখেন।