আগরতলা, ১৩ মার্চ, ২০২৬ঃ
ত্রিপুরায় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। রাজ্যে ১২০ এরও বেশি বিনিয়োগকারী আগ্রহ দেখিয়েছেন এবং শিক্ষা, পর্যটন, স্বাস্থ্যসেবা ও তথ্যপ্রযুক্তি সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রায় ৩,৮০০ কোটি টাকার ৮৭টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। শুক্রবার ত্রয়োদশ ত্রিপুরা বিধানসভার নবম অধিবেশনের উদ্বোধনী ভাষণে এই তথ্য জানান রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু।
তিনি জানান, আগরতলায় অনুষ্ঠিত “ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা বিজনেস কনক্লেভ ২০২৫”-এর মাধ্যমে এই বিনিয়োগের পথ প্রশস্ত হয়েছে।
রাজ্যের আর্থিক অবস্থার কথাও তুলে ধরেন রাজ্যপাল। তিনি বলেন, ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে অক্টোবর মাস পর্যন্ত রাজ্যে জিএসটি থেকে ৯৯৪.২৩ কোটি, ভ্যাট থেকে ২৮১.৪০ কোটি, আবগারি শুল্ক থেকে ২৭১.৪৮ কোটি এবং পেশাগত কর থেকে ২৬.৮৫ কোটি রাজস্ব আদায় হয়েছে। এতে রাজ্যের অর্থনৈতিক কার্যকলাপ ও কর আদায়ের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রবণতার প্রতিফলন ঘটেছে।
রাজ্যপাল আরও জানান, নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন বাড়াতে ‘ত্রিপুরা নারী উদ্যোক্তা নীতি ২০২৫’ চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে মহিলা উদ্যোক্তাদের বাজার ও ঋণ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্বচ্ছ ও বিশ্বাসভিত্তিক প্রশাসন গড়ে তুলতে ‘ত্রিপুরা জন বিশ্বাস আইন’ কার্যকর করা হয়েছে।
শিক্ষাক্ষেত্রেও বড় সাফল্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২৩ জুন ২০২৫ তারিখে উল্লাস নব ভারত সাক্ষরতা কর্মসূচি-র অধীনে ৯৫.৬ শতাংশ সাক্ষরতার হার অর্জনের মাধ্যমে ত্রিপুরাকে সম্পূর্ণ সাক্ষর রাজ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এর ফলে জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০২০-এর লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ত্রিপুরা দেশের তৃতীয় সম্পূর্ণ সাক্ষর রাজ্যে পরিণত হয়েছে।
পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির ক্ষেত্রেও ত্রিপুরা জাতীয় স্তরে স্বীকৃতি পেয়েছে। পিএম-কুসুম প্রকল্পের আওতায় সর্বাধিক সৌরচালিত পাম্প স্থাপনের জন্য রাজ্যটি “সেরা কর্মক্ষম রাজ্য” পুরস্কার অর্জন করেছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে রাজ্যপাল জানান, আগরতলার উইমেন্স কলেজকে নারী বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করা, ত্রিপুরা ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি-কে রাজ্য প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা এবং আগরতলা, উদয়পুর ও আমবাসায় নতুন তিনটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে ত্রিপুরায় মোট ১০,৬১৭ কিলোমিটার সড়ক নেটওয়ার্ক রয়েছে, যার মধ্যে জাতীয় সড়ক, জেলা সড়ক, শহর ও গ্রামীণ সড়ক অন্তর্ভুক্ত। এর ফলে রাজ্যের যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।