আগরতলা, ৩১ মার্চ, ২০২৬ঃ
এডিসি নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের জেরে পরিস্থিতি আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
জনজাতি কল্যাণ মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মার একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারে তিনি মন্তব্য করেন, “যে-ই তিপ্রামথাকে ভোট দেবে, সেই ভোট বিজেপির পক্ষেই যাবে।” এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে প্রথমে সিপিআইএম নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়। এবার একই ইস্যুতে অভিযোগ জানাল তিপ্রামথাও।
তিপ্রামথার অভিযোগ, মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা নির্বাচনী প্রচারের সময় বিভ্রান্তিকর ও প্রভাব বিস্তারকারী মন্তব্য করেছেন, যা ভোটারদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। পাশাপাশি, নির্বাচনী প্রচারে সরকারি যানবাহন ও যন্ত্রপাতি ব্যবহারের অভিযোগও তোলা হয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে মন্ত্রীর প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনা এবং তাকে প্রচার থেকে বিরত রাখার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি সম্পদের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, সিপিআইএমও তিপ্রামথার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে। দলের দাবি, নির্বাচনের আগে ভোটারদের প্রভাবিত করতে সরকারি অর্থ ব্যবহার করা হচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নির্বাচন সূচি ঘোষণার দিন এডিসি প্রশাসন প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার মেডিক্যাল অনুদান মঞ্জুর করে এবং তা ২৯২ জন রিয়াং শরণার্থীর অ্যাকাউন্টে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। এই সুবিধাভোগীরা মূলত কাঞ্চনপুর, দামছড়া এবং পানিসাগর এলাকার বিভিন্ন শিবিরের বাসিন্দা।
সিপিআইএমের মতে, নির্বাচনের সময় নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় এই ধরনের আর্থিক সহায়তা প্রদান “ভোট কেনার প্রচেষ্টা” এবং এটি নির্বাচন আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন। দলটি নির্বাচন কমিশনের কাছে ভোটগ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই অর্থ বিতরণ বন্ধ রাখার এবং প্রশাসনকে আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে।
এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগে এডিসি নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। যদিও মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মার বিরুদ্ধে এখনো পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেয়নি রাজ্য নির্বাচন কমিশন, তাঁর সাম্প্রতিক একাধিক মন্তব্য ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। পরিস্থিতির দিকে এখন নজর রাজ্যবাসীর।