আগরতলা, ২০ জুলাই, ২০২৬ঃ
ত্রিপুরা রাজ্য পুলিশের মহা নির্দেশক অনুরাগ ধনকড়ের রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হল সোমবার। এদিন সকালে রাজ্য পুলিশ সদর কার্যালয়ে তার অফিস কক্ষের শৌচাগারে তাকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। সঙ্গে সঙ্গেই তার সহকর্মীরা তাকে আগরতলা জিবিপি হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রাথমিক পরীক্ষা নিরীক্ষার পর বেলা ১২ টা ৪৮ মিনিট নাগাদ জিবিপি হাসপাতালের বরিষ্ঠ চিকিৎসক প্রদীপ ভৌমিক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রাথমিকভাবে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে খবর চাউর হয়। যদিও চিকিৎসকদের তরফে এখনো মৃত্যুর সঠিক কারণ জানাননি। অনুরাগ ধনকড়ের মৃতদেহ বর্তমানে আগরতলা জিবিপি হাসপাতাল মর্গে রাখা আছে। চিকিৎসক প্রদীপ ভৌমিক জানান, হাসপাতালে আনার সময় অনুরাগ ধনকড়ের শরীরে নাড়ির স্পন্দন ও রক্তচাপ ছিল না। চিকিৎসকদের মতে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ শুধুমাত্র ময়নাতদন্তের রিপোর্টেই জানা যাবে।
ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা, মুখ্যসচিব জিতেন্দ্র কুমার সিনহা, স্বাস্থ্যসচিব কিরণ গিত্তে, পশ্চিম ত্রিপুরার জেলাশাসক বিশাল কুমার। হাসপাতালে যান বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন ।
ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী ত্রিপুরা হাইকোর্টের বর্তমান বিচারপতির তত্ত্বাবধানে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, যদি তদন্তে আত্মহত্যার বিষয়টি উঠে আসে, তবে তার পেছনের কারণও নিরপেক্ষভাবে উদঘাটন করতে হবে। গোটা ঘটনা নিয়ে এখনো রাজ্য সরকার বা ত্রিপুরা পুলিশের তরফে সরকারিভাবে বক্তব্য জানানো হয়নি।
১৯৯৪ ব্যাচের আইপিএস কর্মকর্তা অনুরাগ গত বছরের ১৭ মে ত্রিপুরার ডিজিপি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি ডিজি ইন্টেলিজেন্স পদে কর্মরত ছিলেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি ত্রিপুরা পুলিশ, সিবিআই, সিআইএসএফ, ব্যুরো অব পুলিশ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এবং জাতিসংঘের কসোভো মিশনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ১৯৮৪ সালের শিখ-বিরোধী দাঙ্গার তদন্তে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দলের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।