আগরতলা, ৮ মার্চ, ২০২৬ঃ
উদ্দেশ্যপূর্ণ অগ্রগতির পথে এগিয়ে যেতে, মাদক থেকে দূরে থাকতে এবং প্রযুক্তিকে সমাজ ও দেশের কল্যাণে দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করতে। ত্রিপুরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত তরল স্নাতকদের উদ্দেশ্যে একথা বলেন ভারতের উপররাষ্ট্রপতি চন্দ্রপুরম পোন্নুসামি রাধাকৃষ্ণন।
উপরাষ্ট্রপতি বলেন, আজকের যুবসমাজ এমন এক ঐতিহাসিক সময়ে দাঁড়িয়ে আছে, যখন ভারত দ্রুত এগিয়ে চলেছে বিকশিত ভারত @২০৪৭ এর লক্ষ্য অর্জনের পথে। প্রযুক্তির রূপান্তরমূলক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি শিক্ষার্থীদের ইতিবাচক ও দায়িত্বশীলভাবে প্রযুক্তি ব্যবহারের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “উদ্দেশ্যপূর্ণ অগ্রগতি” সমাজ ও মানবতার উন্নতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উপরাষ্ট্রপতি ত্রিপুরাকে সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের রাজ্য হিসেবে উল্লেখ করেন। এদিন সকালে তার ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দির পরিদর্শনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এই অঞ্চলের গভীর আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব রয়েছে।
কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ প্রচেষ্টায় নেওয়া বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি মাতাবাড়ি ট্যুরিজম সার্কিটের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই প্রকল্প ত্রিপুরাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আধ্যাত্মিক ও পরিবেশভিত্তিক পর্যটনের মানচিত্রে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।
উত্তর–পূর্বাঞ্চলকে দেশের বাকি অংশের সঙ্গে যুক্ত করতে যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে উপরাষ্ট্রপতি বলেন, গত এক দশকে রেল, সড়ক ও বিমান যোগাযোগে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে এই পরিকাঠামোগত উন্নয়নের ফলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষ দেশের অন্যান্য অংশের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হয়েছে, যা এক ভারত শ্রেষ্ঠ ভারত’এর প্রকৃত চেতনাকে প্রতিফলিত করে।
শিক্ষার্থীদের দেশের সেবায় আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়ে উপরাষ্ট্রপতি ভারতের বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি বিখ্যাত তামিল কবি সুব্রমানিয়া ভারতী’র উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ভারতের প্রতিটি নাগরিকই দেশের রক্ষক এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও ঐক্যের মাধ্যমেই দেশ আরও বড় সাফল্যের দিকে এগিয়ে যাবে।
ত্রিপুরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতির প্রশংসা করে উপরাষ্ট্রপতি বলেন, এই প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষাদান, গবেষণা ও উদ্ভাবনের একটি প্রাণবন্ত কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চমানের গবেষণাপত্র, অর্থায়িত প্রকল্প এবং বুদ্ধিমত্তা সম্পত্তি সংক্রান্ত উদ্যোগের বৃদ্ধির উপর গুরুত্ব আরোপ করেন, যা প্রতিষ্ঠানের ক্রমবর্ধমান একাডেমিক মর্যাদাকে প্রতিফলিত করে।