আগরতলা, ১৬ আগস্ট, ২০২৫ঃ
নিষ্ক্রিয় রাজনৈতিক দলগুলির স্বীকৃতি বাতিলের উদ্যোগে এবার নোটিশ পেল ত্রিপুরার আঞ্চলিক দল ইন্ডিজেনাস ন্যাশনালিস্ট পার্টি অব তুইপ্ৰা, আইএনপিটি। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তরফে জারি করা ওই নোটিশে জানানো হয়েছে, গত ছয় বছর ধরে আইএনপিটি কোনো নির্বাচনে অংশ নেয়নি। জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১-এর ২৯এ ধারায় বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দল হিসেবে স্বীকৃতির মূল উদ্দেশ্য হলো নির্বাচনে অংশগ্রহণ। কিন্তু কমিশনের রেকর্ড অনুযায়ী ২০১৯ সালের পর থেকে লোকসভা, বিধানসভা বা কোনো উপনির্বাচনে আইএনপিটি প্রার্থী দেয়নি। ফলে দলটির সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নির্বাচন কমিশনের তরফে বলা হয়েছে, ভারতীয় সংবিধানের ৩২৪ ধারা ও জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ক্ষমতাবলে আইএনপিটি-কে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে। তবে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ হিসেবে আগামী ২৮ আগস্ট মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের অফিসে দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে হাজির হয়ে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে নোটিশ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। কারণ, কমিশনের দাবি অনুযায়ী ২০১৯ সালের পর আইএনপিটি কোনো নির্বাচনে লড়েনি হলেও, বাস্তবে ২০২১ সালের এডিসি নির্বাচনে দলটি তিপ্রামথার সাথে জোটবদ্ধ হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। সেই নির্বাচনে আইএনপিটির প্রার্থী বিকে রাখল লড়াই করেছিলেন এবং বর্তমান এডিসি চেয়ারম্যান জগদীশ দেববর্মাও আইএনপিটি থেকে নির্বাচিত হন। যদিও পরে বিকে রাখলের নেতৃত্বে আইএনপিটি বিলীন করে দেওয়া হয় তিপ্রামথায়।
কিন্তু দলের একটি অংশ বিলুপ্তি মানতে অস্বীকার করে সংগঠনটিকে টিকিয়ে রাখে। এমনকি ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পূর্ব ত্রিপুরা আসনে আইএনপিটির পক্ষ থেকে শিবচন্দ্র দেববর্মা প্রার্থীও হয়েছিলেন। ফলে নির্বাচন কমিশনের নোটিশকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে একপ্রকার বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।