বিজেপি শাসিত ত্রিপুরা আজ পরিণত হয়েছে এক সন্ত্রাসের নাট্যমঞ্চে, যেখানে ন্যায়-নীতি ও গণতন্ত্রের বদলে জঙ্গলরাজই নিত্যনৈমিত্তিক বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক হিংসা এখন রাজ্যের শাসনের অবিচ্ছেদ্য হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। বিরোধী স্বরকে স্তব্ধ করার জন্য আতঙ্ক, ভয় ও হামলাকে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে—এর সাম্প্রতিক উদাহরণ আগরতলায় গতকালের ঘটনা।
আগরতলায় তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ে বিজেপি কর্মীদের দ্বারা সংঘটিত হামলা শুধুমাত্র ভাঙচুর বা লুটপাট নয়, এটি রাজ্যের রাজনৈতিক সংস্কৃতির এক ভয়াবহ অবক্ষয়ের প্রতিচ্ছবি। সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা আমাদের অফিসে প্রবেশ করে তাণ্ডব চালালেও রাজ্য পুলিশ নির্বিকার দর্শকের ভূমিকায় দাঁড়িয়ে থাকে। প্রশাসনের এই নীরবতা আসলে শাসক দলের মদতপুষ্ট সন্ত্রাসকেই আরও উস্কে দিচ্ছে। গণতান্ত্রিক প্রতিবাদকে স্তব্ধ করার এই চেষ্টাই প্রমাণ করে—ত্রিপুরায় বিরোধী রাজনীতির জন্য আর কোনও নিরাপদ পরিসর অবশিষ্ট নেই।
আজ তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি দল — শ্রীমতী প্রতিমা মণ্ডল, শ্রীমতী সায়নী ঘোষ, শ্রীমতী সুস্মিতা দেব, শ্রীমতী বিরবাহা হাঁসদা, শ্রী কুণাল ঘোষ এবং শ্রী সুদীপ রাহা — আগরতলায় পৌঁছেছেন ক্ষতিগ্রস্ত সহকর্মীদের পাশে দাঁড়াতে। তাঁরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করবেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি রাজ্য প্রশাসনের কাছে তুলবেন। দলের পক্ষ থেকে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও অপরাধীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেস গড়ে উঠেছিল স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে, মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার প্রতিজ্ঞা নিয়ে। আজও সেই ঐতিহ্য অটুট রয়েছে। বিজেপি যতই সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করুক না কেন, তৃণমূল কর্মীরা ভয় পায় না, ভয় পায় না জনগণের রায়ের শক্তিকে। রাজ্য সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় সন্ত্রাস যতই বাড়ুক, আমাদের লড়াই থামবে না। কারণ, গণতন্ত্রকে বাঁচানোই আজ ত্রিপুরার মানুষের একমাত্র কর্তব্য, আর সেই লড়াইয়ে তৃণমূল কংগ্রেস থাকবে অগ্রভাগে — অটল, আপসহীন ও সংগ্রামী।