আগরতলা, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ঃ
ত্রিপুরা বিধানসভায় এক বিশেষ অধিবেশনে ‘নারী শক্তি বন্ধন অধিনিয়ম’ (১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল) নিয়ে উত্থাপিত প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। আলোচনায় অংশ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার দেশের মা-বোন ও কন্যাদের কল্যাণ, উন্নয়ন এবং তাদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী মহিলাদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন এবং নারী সংরক্ষণ বিল পাশ হলে তা নারীদের ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে এক বড় পদক্ষেপ হবে। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিরোধী দলগুলি বিভিন্ন সময়ে জনকল্যাণমূলক বিলের বিরোধিতা করেছে এবং এই ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
বিধানসভায় সরকার পক্ষের মুখ্যসচেতক কল্যাণী সাহা রায় প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। প্রস্তাবে দেশের সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে ঐকমত্য গড়ে তুলে ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাস এবং সংসদ ও রাজ্য বিধানসভায় এক-তৃতীয়াংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষণের আহ্বান জানানো হয়।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত আইনে এসসি ও এসটি সংরক্ষিত আসনের মধ্যেও ৩৩ শতাংশ আসন সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় সরকার ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই এই আইন কার্যকর করতে চায়।
বিলের পক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পরিষদীয় মন্ত্রী রতনলাল নাথ, সমাজকল্যাণমন্ত্রী টিংকু রায়, বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা, মৎস্যমন্ত্রী সুধাংশু দাস, খাদ্যমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী সহ একাধিক মন্ত্রী ও বিধায়ক বলেন, নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে এই বিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বলেন, নারীর ক্ষমতায়নে সব রাজনৈতিক দলের সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন।
প্রস্তাবের উপর মুখ্যমন্ত্রীসহ মোট ২৫ জন বিধায়ক আলোচনা করেন। শেষে কণ্ঠভোটে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। সরকার পক্ষের মতে, এই বিল কার্যকর হলে দেশের গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হবে এবং নারীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।