উত্তরবঙ্গের বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে পরিকল্পিত হামলার শিকার হয়েছেন বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু ও বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। অভিযোগ, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা সংগঠিতভাবে তাঁদের উপর হামলা চালায়। ঘটনাটি ঘটেছে যখন দুই জনপ্রতিনিধি ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছিলেন।
আজ শিলিগুড়িতে আহত দুই জনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব। তিনি বলেন, “খগেন মুর্মু ও শঙ্কর ঘোষ মানুষের পাশে দাঁড়াতে গিয়েছিলেন, আর সেই মানবিক উদ্যোগকেই নৃশংসভাবে আক্রমণ করা হয়েছে। এই ঘটনা তৃণমূল সরকারের সন্ত্রাস রাজনীতির আরেকটি প্রমাণ।”
বিপ্লব দেব আরও অভিযোগ করেন যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝতে পেরেছেন, মানুষের আস্থা তিনি হারিয়েছেন। তাই প্রশাসনকে দলীয় হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে পশ্চিমবঙ্গে ‘জঙ্গলরাজ’-এর শাসন কায়েম করা হচ্ছে। “সরকারি তন্ত্র এখন দলীয় তন্ত্রে পরিণত হয়েছে। গণতন্ত্রকে প্রতিদিন রক্তাক্ত করা হচ্ছে,” মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজত্বে সন্ত্রাস, ভয়, এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা প্রতিদিন নতুন অধ্যায় লিখছে। মানুষ আর তৃণমূলের পাশে নেই—এ কথা মুখ্যমন্ত্রী বুঝতে পারছেন। তাই ভয় দেখিয়ে ও দমননীতি চালিয়ে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার মরিয়া চেষ্টা চলছে।”
বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করেছে, রাজ্যের এই অবস্থা গণতন্ত্রের জন্য গভীর বিপদ সংকেত। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ঘটনার তদন্ত দাবি করেছে এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আহত দুই নেতার দ্রুত আরোগ্যের জন্য বিজেপি কর্মীরা রাজ্যজুড়ে প্রার্থনা সভা আয়োজন করছেন। উত্তরবঙ্গের জনগণও এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকার দাবি তুলেছেন।