আগরতলা, ১২ এপ্রিল, ২০২৬ঃ
ত্রিপুরা এডিসি নির্বাচনের ভোটগ্রহণে রবিবার জুড়ে ব্যাপক রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও উত্তেজনার ছবি ধরা পড়েছে রাজ্যের বিভিন্ন কেন্দ্রে। প্রার্থীদের পথ অবরোধ, পোলিং এজেন্টদের মারধর, বোমাবাজি, গুলি এবং ভোটে বাধা—একাধিক অভিযোগ উঠেছে প্রায় সব রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধেই। সাব্রুমে পূর্ব মহুরীপুর-ভুরাতলী ও শিলাছড়ি-মনু বনকুল কেন্দ্রের ইভিএম বহনের সময় বাসে হামলার অভিযোগ ওঠে তিপ্রা মোথা কর্মীদের বিরুদ্ধে, পরিস্থিতি সামাল দিতে নিরাপত্তা বাহিনী লাঠিচার্জ করে এবং এতে একাধিক সমর্থক আহত হন।
আমতলী-গোলাঘাটি কেন্দ্রে বিজেপির পোলিং এজেন্টদের বুথে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, অন্যদিকে কাঁঠালিয়া-মির্জা-রাজাপুর কেন্দ্রে বুথ জ্যাম ও বিধায়কের গাড়িতে হামলার ঘটনায় উত্তেজনা বাড়ে। একইসঙ্গে দয়ালপাড়ায় বোমা নিক্ষেপ ও গুলির অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে বিধায়ক তফাজ্জল হোসেনকে। কুলাই-চাম্পাহাওর কেন্দ্রের ৪২ নম্বর বুথে ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে এআরও ধনঞ্জয় চাকমার হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
কচুছড়া-ডেমছড়া কেন্দ্রে বিরোধী দলের পোলিং এজেন্ট ছাড়াই ভোটগ্রহণের বিরল চিত্র দেখা যায়। রামচন্দ্র ঘাট ও বীরচন্দ্র কলসি কেন্দ্রে বোমাবাজি ও ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগে আতঙ্ক ছড়ায়। টাকারজলা-জম্পুইজলা কেন্দ্রে উত্তপ্ত পরিস্থিতির জেরে গণনা কেন্দ্র ও ইভিএম স্ট্রংরুম স্থানান্তর করতে বাধ্য হয় প্রশাসন।
বীরচন্দ্রনগর-কলসি কেন্দ্রে হামলায় আহত হন বিজেপি প্রার্থী সঞ্জীব রিয়াং, পাশাপাশি দেবদারু এলাকায় দলীয় কর্মীদের ওপর আক্রমণের অভিযোগ ওঠে। সাব্রুমের তইছামায় প্রাক্তন বিধায়ক প্রভাত চৌধুরীর গাড়ি দুর্ঘটনায় তাঁর নিরাপত্তারক্ষী গুরুতর জখম হন, যদিও ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে।
এছাড়া কল্যাণপুরে বহিরাগতদের গুলি চালানোর অভিযোগে চরম আতঙ্ক ছড়ায়, আর কাঁঠালিয়া কেন্দ্রে বিজেপির পোলিং এজেন্ট সৌরভ দাসকে মারধরের ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা। সব মিলিয়ে অশান্তির আবহে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হলেও বিভিন্ন ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।