আগরতলা, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ঃ
ত্রিপুরায় বন্য হাতির আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই উত্তর জেলার মানুষ নতুন সমস্যার মুখে পড়েছেন। হিমালয়ান ব্ল্যাক বিয়ার বা কালো ভালুকের বিচরণে জেলার প্রত্যন্ত এলাকাগুলিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। খাদ্যাভাব ও অরণ্য ধ্বংসের জেরে ক্ষুধার্ত ভালুকেরা গ্রামে ঢুকে পড়ছে, আর তাতেই ঘটছে একের পর এক দুর্ঘটনা।
হেলেনপুর, খেদাছড়া, কালাপানি, থুমছাপাড়া, বৃক্ষতল, লুংগির, থারমা পাড়া, দমদই, সিমলুং, রাইমনি পাড়া, ব্রজকুমার পাড়া ও মধুচন্দ্রপাড়ার মতো গ্রামগুলিই এখন সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। সম্প্রতি খেদাছড়া গ্রামে ভালুকের আক্রমণে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে গ্রামবাসীদের ভয় আরও বেড়েছে।
জুমিয়ারা একা জুমে কাজ করতে পারছেন না, মহিলারা দল বেঁধে জল আনতে যাচ্ছেন, রাত নামলেই গ্রামে নেমে আসছে অদ্ভুত নিস্তব্ধতা। শুধু মানুষ নয়, গৃহপালিত পশুর উপরও ভালুকের হামলা বাড়ছে। এতে গ্রামীণ অর্থনীতিও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, ফসল কাটা বা বাঁশঝাড়ে করুল তুলতে গিয়েই হঠাৎ ভালুক আক্রমণ করছে। ইতিমধ্যেই থুমছাপাড়া ও হেলেনপুরে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। বন দপ্তরের কাছে ঠিক কতগুলি ভালুক রয়েছে তার সঠিক তথ্য নেই। শুধু অনুমাননির্ভর তথ্যের কারণে কার্যকর পরিকল্পনা নেওয়া যাচ্ছে না বলে গ্রামবাসীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অরণ্য ধ্বংস ও অবৈধ কাঠ পাচারের ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য ভেঙে পড়েছে। বন্যপ্রাণীর বিকল্প খাদ্য সংস্থানও তৈরি হয়নি। এর ফলে ক্ষুধার্ত ভালুকেরা মানুষের বসতিতে ঢুকে পড়ছে।
গ্রামবাসীদের দাবি, অবিলম্বে ভালুক গণনা শুরু করা হোক এবং প্রত্যন্ত গ্রামে সুরক্ষা বলয় তৈরি করা হোক। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে প্রাণহানি আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।